প্রিন্ট এর তারিখঃ Apr 3, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jan 14, 2026 ইং
বিসিবি পরিচালক নাজমুলের পদত্যাগের দাবিতে জড়ো হচ্ছেন ক্রিকেটাররা

বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের পদত্যাগের দাবিতে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন ক্রিকেটারদের সংগঠন ক্রিকেটার্স ওয়েলফায়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব)। আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) বিপিএলের প্রথম ম্যাচ তথা দুপুর ১টার মধ্যে তিনি পদত্যাগ না করলে সব ধরনের ক্রিকেট কার্যক্রম বন্ধ রাখার আলটিমেটাম দিয়েছে সংস্থাটি।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিপিএলের দিনের প্রথম ম্যাচের সময় পার হয়ে গেলেও কোনো দল মাঠে না নামায় খেলা শুরু হওয়া নিয়ে গভীর শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিপিএলের ছয়টি দলের ক্রিকেটাররা রাজধানীর হোটেল শেরাটনে জড়ো হচ্ছেন এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের ক্রিকেট বয়কটের হুমকি দিয়েছেন তারা। আজ দুপুর ১টায় কোয়াবের পক্ষ থেকে সেখানে একটি জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছে।
সংকটের সূত্রপাত হয় গতকাল বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের এক বিস্ফোরক মন্তব্যের পর। বিশ্বকাপে না খেললে ক্রিকেটারদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেছিলেন, ‘বিসিবির কোনো ক্ষতি হবে না, বরং ক্রিকেটারদেরই ক্ষতি হবে। কারণ তারা খেললেই কেবল ম্যাচ ফি ও বোনাস পান।’
তিনি আরও যোগ করেন যে, ক্রিকেটাররা আশানুরূপ পারফর্ম না করলে বোর্ড যেমন বেতন কাটে না, তেমনি ভালো করতে না পারলে বিনিয়োগ করা কোটি কোটি টাকা ফেরত চাওয়া হয় না। তার এই মন্তব্যকে অত্যন্ত ‘অপমানজনক’ ও ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ক্রিকেটাররা।
নাজমুলের এই বক্তব্যের প্রতিবাদে গতকাল রাতেই কোয়াবের সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন জরুরি এক জুম মিটিংয়ে জানিয়েছিলেন যে, একজন বোর্ড পরিচালক এমন ভাষায় কথা বলতে পারেন না। কোয়াবের পক্ষ থেকে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, আজ বিপিএল ম্যাচ শুরুর আগে নাজমুল পদত্যাগ না করলে ক্রিকেটাররা মাঠে নামবেন না।
নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও কোনো সমাধান না আসায় ক্রিকেটাররা তাদের পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী খেলা বয়কট করে হোটেল শেরাটনে সমবেত হতে শুরু করেন। ক্রিকেটারদের এই একতাবদ্ধ অবস্থান বিপিএলের মতো বড় আসরকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
বর্তমানে হোটেল শেরাটনে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং ক্রিকেটাররা তাদের সম্মান ও দাবির প্রশ্নে অনড় রয়েছেন। বোর্ড ও ক্রিকেটারদের মধ্যে এই স্নায়ুযুদ্ধ নিরসনে এখন পর্যন্ত বিসিবির শীর্ষ পর্যায়ের কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি।
সংবাদ সম্মেলন থেকে কোয়াব আগামী দিনের জন্য আরও কঠোর কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করে কি না, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে দেশের ক্রিকেট প্রেমীরা। এই অস্থিরতা নিরসন না হলে কেবল বিপিএল নয়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকার NNTV